দামের ব্যাপক ওঠানামা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এশিয়ায় এখন স্বর্ণের ভৌত বাজার বেশ খারাপ সময় পার করছে। ভারতে গত শুক্রবার স্থানীয় বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম কমে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ রুপিতে নেমে আসে, যা গত ২ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। দামের এ পতন সত্ত্বেও বাজারের চরম অস্থিরতার কারণে সাধারণ ক্রেতারা বড় ধরনের কোনো বিনিয়োগ বা কেনাকাটা করতে দ্বিধাবোধ করছেন।
ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ভারতের ডিলাররা এখন প্রতি আউন্সে সর্বোচ্চ ৫৪ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছেন, যা গত সপ্তাহে ছিল সর্বোচ্চ ৩৫ ডলার। এ দামের মধ্যে দেশটির ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণের বাজার চীনেও পরিস্থিতি বেশ শান্ত। গত সপ্তাহে যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে ১-৫ ডলার প্রিমিয়াম বা সংযোজিত মূল্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে চলতি সপ্তাহে তা ৪-৮ ডলার কমে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার ড্রাগন বোট ফেস্টিভ্যাল ছুটির কারণে চীন ও হংকংয়ের বাজার বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তাছাড়া চীনা বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য চুক্তির খবরের দিকে নজর রাখছেন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ২৩ শতাংশের বেশি কমেছে। জ্বালানিজনিত মূল্যস্ফীতি ও যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বাড়ার আশঙ্কায় এ পতন হয়েছে।
হংকংয়ের উইং ফুং প্রেশাস মেটালসের ডিলিং প্রধান পিটার ফাং জানান, সাংহাইয়ের বাজার এখন খুবই শান্ত এবং বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। আগামী জুলাই বা আগস্টে চাহিদা আবার বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।